ঢাকা বুধবার, আগস্ট ২১, ২০১৯

মাছ শিকারে গিয়ে ভূতের কবলে পড়েন চয়ন-সিতুল!


|| প্রকাশিত: 7:59 pm , August 12, 2019

জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়ন মাছ খেতে খুব একটা ভালোবাসেন না। কিন্তু মাছ ধরা তার সবচেয়ে প্রিয় শখ। সেই শখটা এমন পর্যায়ের যে, সময় পেলেই দূর-দূরান্তে ছুটে যান মাছ শিকারে। গেল বছর জাতীয় দল থেকে অবসরে যাওয়া তারকা এই হকি খেলোয়াড়ের মাছ ধরার অন্যতম সঙ্গী আবার জাতীয় দলেরই বর্তমান অধিনায়ক ফরহাদ আহমেদ সিতুল। তারও প্রধান শখ মাছ ধরা।

চয়ন-সিতুলের সাথীর তালিকায় আছেন জাতীয় দলেরই আরও কয়েকজন তারকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাছ শিকারে গিয়ে নানা মজার অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। একবার তো গভীর রাতে কয়েকজন মিলে মাছ ধরতে গিয়ে পড়েন ভূতের কবলে। ঈদ আনন্দে পাঠকদের জন্য ভয়ার্ত সেই গল্প বলেছেন চয়ন-সিতুল দুজনেই।

সেবার তাদের পরিকল্পনাটাই ছিল এমন, রাতে যাবেন মাছ শিকারে। কিছুটা জঙ্গলের ভেতর ছিল জায়গাটা (চয়ন-সিতুলের চাওয়া অনুযায়ী স্থানের নামটা গোপন রাখতে হচ্ছে)। বেশ মাছও আটকা পড়তে থাকে তাদের শিকারে। কিন্তু এর মধ্যে কোথা থেকে যেন আসতে থাকল কান্নার আওয়াজ। যেটা তাদের মাছ ধরা শুধু পণ্ড করেনি, বাগড়া দিয়েছে ফেরার পথেও।

চয়নের মুখ থেকেই শোনা যাক আসল ঘটনা, “রাত ২টা হবে তখন। একদম জঙ্গলের ভেতরে ছিল জায়গাটা। মাছ ধরছিলাম আমরা মন দিয়ে। একটা সময় দেখি কোথা যেন কান্নার শব্দ আসছে।”

ভয়ে তখন জুবুথুবু অবস্থা চয়নদের, “আমি সিতুলের দিকে তাকাই, সিতুল আমার দিকে তাকায়। খুব মশা বলে আমরা কয়েল ধরানোর ব্যবস্থা করে রেখেছিলাম। সিতুলকে বললাম, আগুনটা কাছে আন। আগুন কাছে আনলাম, তাতে কিছুটা ভয় কাটল।”

ঘটনার বিবরণ এবার শোনা যাক সিতুলের মুখ থেকে, “আমরা মাছ ধরছিলাম। প্রথমে হঠাৎ একটা শব্দ শুনতে পাই। চয়ন ভাইয়ের হাতে একটা মোমবাতি ছিল। সেটা দিয়ে আমাদের সাহস দিচ্ছিল, যে ভয় পাবি না; আমার কাছে আগুন আছে। এরপর একটা মহিলার কান্নার আওয়াজ স্পষ্ট হলো। যেটা শুনে আমরা বেশ ভয় পেয়ে গেলাম। মাছ মারা ফেলে চলে যেতে লাগলাম।”

কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। “হঠাৎ সামনে একটা নারকেলের ডাল পড়ল। আমার এক ফ্রেন্ড তো ওই মুহূর্তে দৌড় দেয় তখন” বলছিলেন সিতুল। আর চয়ন বলেন, “লেক থেকে ওপরে ওঠার পর দেখি আবারও কান্না। পুরো মেয়ে কণ্ঠে কান্না। ভয়ে ভয়ে আমরা হাঁটছিলাম। হঠাৎ সামনে একটা নারিকেলের ডাল ভেঙে পড়ে। তবু ধীরে ধীরে সমনে এগোলাম। কোনো বাতাস জাতীয় কিছুই নেই। অথচ…। আমরা তখন পুরো স্তব্ধ।”

এরপর কী হলো? নারকেলের ওই ডাল পড়ার পর চয়ন সিতুলকে বলেন একটা মাছ ফেলতে। “সিতুলকে বলি তাড়াতাড়ি একটা মাছ ফেল। মুরুব্বিদের কাছে তো এমন গল্প শুনেছি। মাছ ফেলার পর দেখি আর শব্দ নেই” বলছিলেন চয়ন। সিতুলও বললেন একই কথা, “মাছ ফেলার পর কান্নার আওয়াজ আর পাইনি।”

একজনের কাছ থেকে প্রথমে গল্পটা শোনার পর আরেকজনের কাছ থেকে শোনা। আলাদা আলাদাভাবে দুজনের কাছ থেকে একই রকম বিবরণ শুনে অন্তত ঘটনা বিশ্বাস করতেই হয়। চয়ন বলেন, ঘটনাটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে থাকবে। সিতুল বলেন, এরপর তো আমরা আর রাতে মাছ ধরতেই বের হইনি।

কিন্তু ভূত নিয়ে নানা মতোবাদই তো আছে। কেউ বলেন ভূত বলে কিছু নেই। আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন ভূতে। চয়ন-সিতুলরা ওই ঘটনার পর কী মনে করেন?

চয়ন বলেন, “আসলে সেদিন কোনো মহিলা কান্নাকাটি করেছে নাকি আশপাশে কোথাও বিড়াল ডাকছে জানি না। তবে আমরা ভয় পেয়েছি খুব।”

সিতুল বলেন, “এই ঘটনার পর আমরাও আসলে হতবাক বলতে পারেন। ভূত নেই এটা বলা মুশকিল। কখন সামনে চলে আসে…।”

সিতুল আসলেই খুব ভয় পেয়েছিলেন সেদিন, “আমরা খুব ভয় পেয়েছি আসলে। শুধু শফিকুল নামে আমাদের এক বন্ধু ছিল, ওর খুব সাহস ছিল। ও বলছিল, ভূত আসুক। আসলে মারামারি করব।”

সূত্র: দেশ রূপান্তর

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ