ঢাকা মঙ্গলবার, অক্টোবর ২২, ২০১৯

ভালোবাসার টানে বেরিয়ে লাশ হয়ে ফিরল আসমা


|| প্রকাশিত: 4:56 pm , August 21, 2019

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগি থেকে উদ্ধার হওয়া মাদ্রাসাছাত্রী আসমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় শিংপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় শিংপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল ৭টায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আসমার বাড়িতে পৌঁছালে মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামের মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বুধবার দুপুরে আসমার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা কাঁদছেন। তাদের কান্নায় আশপাশের লোকজনও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।

পঞ্চগড় জেলা সদরের শিংপাড়া এলাকার কনপাড়া গ্রামের দিনমজুর আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে আসমা। তিনি স্থানীয় খাঁনবাহাদুর মখলেছুর রহমান মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, রবিবার সকালে আসমা খাতুনের বাবা-মা বাড়ির বাইরে কাজে যাওয়ার পর আসমা একটি কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পার্শ্ববর্তী সীতাগ্রামের আবু হানিফ ওরফে ভুট্টোর ছেলে মারুফ হাসান বাঁধনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। সেই তাকে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে।

আসমার জানাজায় পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজাহারুল হক প্রধান, পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস আলী, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আল তারিক ও আসমার বাবা আব্দুর রাজ্জাক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

বক্তারা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে আসমাকে ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সোমবার সকালে কমলাপুর রেল স্টেশনের ময়মনসিংহগামী বলাকা কমিউটার ট্রেনের একটি পরিত্যক্ত বগি থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আসমার মরদেহ উদ্ধার করে কমলাপুর জিআরপি থানার পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পুলিশ চাচা মো. রাজুর কাছে আসমার লাশ হস্তান্তর করে।

চাচা মো. রাজুর অভিযোগ, আসমাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে কামড়ের দাগ দেখা গেছে। দুটি হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। মাথার পেছনে ক্ষত এবং গলায় দাগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় আসমার চাচা মো. রাজু মারুফ হাসান বাঁধনকে প্রধান আসামি করে কমলাপুর জিআরপি থানায় ধর্ষণের পর হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে বাঁধনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।