ঢাকা শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

‘স্লিপ অব ট্যাং’ করে ফেলেছি


|| প্রকাশিত: 2:23 pm , September 2, 2019

বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ স ম জগলুল হোসেনের আদালতে বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তা মুফতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন আত-তাহেরীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

রোববার মামলাটি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী সদস্য মো. ইব্রাহিম খলিল। এ মামলার প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তাহেরী।

সেখানে প্রথমে তাকে প্রশ্ন করা হয়, ইসলামকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে আপনার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আপনি কি এই বিষয়টি জেনেছেন? তাহেরী বলেন, ‘না, আমি এই মামলার বিষয়ে এখনো কিছুই শুনিনি।’

ওয়াজের ভেতরে ইসলামকে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ এনে আপনার নামে মামলা করা হয়েছে। আপনি যে বাক্য বা শব্দগুলো ওয়াজের সময় ব্যবহার করেন এগুলোকে কী আপনি ব্যঙ্গাত্মক মনে করেন? তাহেরী বলেন, ‘ওয়াজের ভেতরে এই শব্দগুলো ব্যবহার করা উচিত না। একটা শব্দ স্লিপ অব ট্যাং হয়ে হয়তো ব্যবহার করে ফেলেছি। আমি হয়তো ঠিক করিনি।’

এসময় তাহেরী উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘আমার যে শব্দগুলো নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা হচ্ছে সেগুলো কি ইসলামকে নিয়ে ব্যঙ্গের পর্যায়ে পড়ে?’

ওয়াজের সময় কথাগুলো বলে আপনি কখনো ভেবেছেন যে, এগুলো বলা ঠিক হচ্ছে কি না? তাহেরী বলেন, ‘আমি আসলে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কথাগুলো বলেছি। পোলাপান সামনে ছিল, আমি চা খাচ্ছি। তখন আমি চা ঢেলে দেওয়ার কথা বলেছি। আমি কখনো ভাবিনি এসব ব্যাপার এই পর্যায় পর্যন্ত যাবে। ভাবলে এগুলো কখনো বলতাম না।’

ওয়াজের প্রেক্ষাপটে বলেন বলে আপনি দাবি করছেন। কিন্তু ‘বসেন বসেন বইসা যান’ বলে বলে যে নাচ-গান করেন, এর কী ব্যাখ্যা দেবেন? তাহেরী বলেন, ‘ওয়াজ করার সময় কেউ কেউ সামনে দাঁড়িয়ে যায়। তখন আমি কথাগুলো মিলিয়ে মিলিয়ে বলেছি।’

আপনি বলছেন, এগুলো স্লিপ অব ট্যাং বা পরিস্থিতির প্রয়োজনে বলেছেন। কিন্তু অধিকাংশ ওয়াজেই কীভাবে স্লিপ অব ট্যাং হয়? তাহেরী বলেন, ‘চা ঢেলে দেওয়ার কথা একদিনই বলেছি মাত্র। অন্যগুলো হয়তো কখনো কখনো বলে ফেলেছি। তবে এখন আর এসব বলি না।’

এখন আর এসব বলেন না বলছেন আপনি। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন আগের একটি ভিডিওতে দেখলাম, আপনি আপনার অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে সুর মিলিয়ে ‘বসেন বসেন’ বলে বলে নাচ-গান করছেন এ ব্যাপারে কি বলবেন? তাহেরী বলেন, এখন আর না করার চেষ্টা করি। তবে অনুসারীরা হয়তো এ রকম করতে পারে।’

তাহলে আপনি খেয়াল করেছেন, আপনার এসব উদ্ভট কথা বা বাক্য অন্যদের ভেতরেও বাজে প্রভাব ফেলছে? তাহেরী উত্তরে বলেন, ‘হ্যাঁ, হয়তো ফেলছে। কিন্তু এখন থেকে আর এসব বলব না বা করব না। আমি ভুল করেছি। তা এখন বুঝতে পারছি।’

আপনার নামে মামলা হয়েছে। মামলা নিয়ে কী বলবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তাহেরী বলেন, ‘আমি হয়তো আলোচনায় উঠে এসেছি বলে কথাগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তাই মামলাও খেয়েছি। কিন্তু আমি এ রকম শত শত ভিডিও দেখাতে পারব যা কোরআন এবং সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ভুল করে অনেকেই অনেক কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে তো মামলা হচ্ছে না। এটাই আমার আক্ষেপ। আর এটা হয়তো আমার তকদিরে লেখা ছিল তাই হয়েছে। এটাই আমার জীবনের একটি বাস্তবতা।’