ঢাকা বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২০

ববিতে উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের দাবিতে আন্দোলন


|| প্রকাশিত: 10:45 pm , October 17, 2019

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন করেন।

বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, প্রধান পরীক্ষানিয়ন্ত্রক সহ গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই পর্যাপ্ত ডীন। ছয়টি অনুষদ থাকলেও দুজন ডিন দিয়ে এতদিন কাজ চলছিলো এতোদিন যার একজন বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন এবং অন্যজনের মেয়াদ প্রায় শেষ। যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রমসহ একাডেমিক, প্রশাসনিক সহ প্রায় সকল কাজে স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এই পদশূন্যতার দরুন আর্থিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা নেওয়ার কোন পদাধিকারী না থাকায় ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে।

এসব পদ শূন্য থাকায় একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রম যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া সহ একেডেমিক জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং সেশন জটের পরিমাণ বাড়ছে। এছাড়াও বন্ধ রয়েছে সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও ফিন্যান্স কমিটির কার্যক্রম।

তাই নিজেদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগের জন্য শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী লোকমান হোসেন বলেন, “বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পদে লোকবল না থাকা সত্যিই বেদনাদায়ক। উচ্চশিক্ষার নবীন এই প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় আমরা শিক্ষার্থীরা যেমন হতাশ তেমনি জাতির কাছেও এটা একটি উদ্বেগের বিষয়।

তিনি আরো বলেন, উপাচার্য না থাকায় প্রশাসনিক কাজে নানা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে। সেশনজটের আশংকা বাড়ছে। এভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান বলেন, এই শূন্য পদ দ্রুত পূরণ না করা হলে শিক্ষার্থীদের সেশন জট যেমন বেড়ে যাবে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়বে। এর আগে ২০১৫ সালেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে দেরি হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয় তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়েছিলো। এবারো সেই একই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এসময় মানবন্ধনে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য,ট্রেজারার সহহ গুরুত্বপূর্ণ যে প্রশাসনিক পদখালি রয়েছে সেগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে।’

উল্লেখ্য, গত ২৬ শে মার্চ শিক্ষার্থীদের “রাজাকারের বাচ্চা” বলায় টানা ৩৪ দিনের আন্দোলনে তৎকালীন ভিসি ড. এস এম ইমামুল হক পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং সেসময় হতেই টানা চার মাস ভিসির রুটিন দ্বায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ট্রেজারার এ কে এম মাহবুব হাসান। কিন্তু গত ০৭ অক্টোবর ট্রেজারার অধ্যাপক এ কে এম মাহবুব হাসানের দায়িত্ব শেষ হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর হতে নিয়োগ হয়নি কোন প্রো-ভিসি এবং বিগত এক বছর ধরে নেই কোন রেজিস্ট্রারও। নৈতিক স্খলনের দায়ে সাবেক রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয় । এমতাবস্থায় অবস্থায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির দ্বায়িত্ব পালন করার মতো পদাধিকারী কেউ নেই বর্তমানে।

তাই শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহলের সকলের দাবি দ্রুত সময়ের মাঝে ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ