ঢাকা বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০

বিশ্ব ঘুম দিবস : জেনে নিন ঘুম কেন গুরুত্বপূর্ণ


|| প্রকাশিত: 3:26 pm , March 13, 2020

পিনিউজ২৪ ডেস্ক: ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুক্রবার ঘুম দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এবার দিবসটি পড়েছে আজ।

ঘুমের গুরুত্ব আমরা সবাই বুঝি। যদিও চরম ব্যস্ততার যুগে ঘুম মাথায় উঠেছে বর্তমান প্রজন্মের। যার কারণে শরীর ও মনে বাসা বাঁধছে নানা রোগ। আসুন জেনে নিই ঘুমের উপকারিতা-

পর্যাপ্ত ঘুম হৃত্‍‌পিণ্ড সুস্থ রাখে, নিয়ন্ত্রণে রাখে ওজন। ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। ঘুম ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কমায়।

অতিরিক্ত বা খুব কম ঘুমের প্রভাব পড়ে আয়ুর ওপর। ২০১০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০-৭৯ বছর বয়সে মৃত নারীদের মধ্যে বেশির ভাগেরই মৃত্যু হয়েছে কম বা বেশি ঘুমানোর জন্য।

হার্টের অসুখ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, অকাল বার্ধক্যের থেকে শরীরে জ্বলুনি অনুভূতি হয়। গবেষণা বলছে, যারা রাতে ৬ ঘণ্টা বা তার কম ঘুমান, তারাই বেশির ভাগ এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন। কারণ তাদের রক্তে ইনফ্লামেটরি প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়।

ঘুম বাড়ায় সৃজনশীলতা। হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, ঘুমানোর সময় স্মৃতি ও নানা কাল্পনিক বিষয় মাথায় ঘোরাফেরা করে। এ জন্য ভালো ঘুম হলে তা সৃষ্টির কাজে বিশেষ সহায়ক হয়। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে এটা বিশেষ প্রযোজ্য।

খেলোয়াড়দের সাফল্যের অন্যতম অস্ত্র ঘুম। স্ট্যান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, কলেজের ফুটবল খেলোয়াড়দের মধ্যে যারা রাতে ১০ ঘণ্টা ঘুমান, ৬-৮ সপ্তাহ পর তাদের স্ট্যামিনা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

গবেষণা বলছে, কলেজে যেসব ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করেন, তারা অন্যদের থেকে বেশি ঘুমান। যারা কম ঘুমান, তাদের ফলাফল হয় খারাপের দিকে। এমনকি ঘুম কম হলে শিশুরা অমনোযোগী হয়ে পড়ে।

যদি সুস্বাস্থ্যের জন্য ডায়েট চার্ট অনুসরণ করেন, তবে ঘুমানোর ব্যাপারটিও মাথায় রাখুন। গবেষণা বলছে, ডায়েটের পাশাপাশি যারা ঠিকঠাক ঘুমান তাদের ওজন অন্যদের থেকে ৫৬% বেশি কমে।

স্ট্রেস কমাতে বিশেষ সহযোগী ঘুম। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও ঘুমের জুড়ি মেলা ভার। পর্যাপ্ত ঘুম হতাশাও কমায়। ঘুমে ঘাটতি থেকে আসে হতাশা ও উদ্বেগ।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ঘুমের টিপস

একটা নির্দিষ্ট সময় তৈরি করুন ঘুমতে যাওয়ার ও ওঠার। দিনে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা ৪৫ মিনিটের বেশি যেন না হয়। ঘুমের অন্তত ৪ ঘণ্টা আগে মদ্যপান নয়। ঘুমানোর আগে কিছুতেই ধূমপান করবেন না। ঘুমের আগে ব্যায়াম করবেন না। অত্যধিক মসলাদার খাবার খেয়ে ঘুমাতে যাবেন না। বেছে নিন আরামদায়ক বিছানা।

শিশুদের জন্য ঘুমের টিপস

রাতে প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যেতে হবে। রাত ৯টা হলে সবচেয়ে ভালো। দিনে মাঝে মাঝে অল্প বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। শিশুর ঘুমানোর জায়গাটি হবে অন্ধকার, ঠিকঠাক তাপমাত্রা সম্পন্ন ও পরিচ্ছন্ন। শিশুকে একা ঘুমানোর অভ্যাস করান। ঘুমানোর আগে কোনোভাবেই ফোন, কম্পিউটার গেম ও টিভি দেখা যাবে না। অন্তত ২ ঘণ্টা আগেই বন্ধ করতে হবে।

এই সময় অবলম্বনে