ঢাকা বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০

পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করায় ফাঁকা হোটেল-মোটেল


|| প্রকাশিত: 3:09 am , March 20, 2020

পিনিউজ২৪ ডেস্ক: করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁঁকি এড়াতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে বিভিন্ন পর্যটন এলাকার হোটেল-মোটেলগুলো এখন পর্যটকশূন্য। খুলনায় সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকত ফাঁকা হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচল। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের পর্যটন স্পটগুলো ও নাটোরের উত্তরা গণভবনসহ সব দর্শনীয় স্থানও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যুরো, অফিস, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

খুলনা :বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশে গতকাল বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে

বন বিভাগ। এ ছাড়া জনসমাগম এড়াতে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কসহ নগরীর সবগুলো শিশু পার্ক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. মঈনুদ্দিন খান ও কেসিসি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বরিশাল ও কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) :পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। গতকাল সকাল ৮টার মধ্যে হোটেল-মোটেলগুলো থেকে পর্যটকরা চলে গেছেন নিজ নিজ গন্তব্যে। বুধবার রাতে কলাপাড়ার ইউএনও মুনিবুর রহমান সরকার কুয়াকাটা পর্যটন এলাকাসহ কলাপাড়ার সব হোটেল-মোটেল বন্ধের নির্দেশনা দেন। এ জন্য সৈকতে এবং কলাপাড়া পৌর শহরে মাইকিং করা হয়। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হোটেল মালিকদের নির্দেশনা অমান্য করার প্রবণতা দেখা গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামানো হবে।

এদিকে বরগুনা জেলা প্রশাসন পর্যটন কেন্দ্র শুভসন্ধ্যা সমুদ্রসৈকত, টেংরাগিরি ইকোপার্ক, মোহনা পর্যটন কেন্দ্র এবং হরিণঘাটা ইকোপার্কে পর্যটক যাতায়াতে বুধবার বিকেল থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ।

কক্সবাজার ও টেকনাফ :টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপগামী পর্যটকবাহী সব জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বিকেলে দেওয়া এ নির্দেশ আজ শুক্রবার সকাল থেকে কার্যকর হবে। টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নৌরুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। এদিকে জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোটিশ দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন। এদিকে কক্সবাজার থেকে দূরপাল্লার বাস ও বিমান প্রায় খালি যাচ্ছে।

রাঙামাটি :কাপ্তাই লেক, সুভলং ঝর্ণা, ঝুলন্ত সেতুসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অনেক পর্যটক হোটেলের অগ্রিম বুকিংও বাতিল করেছেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শিল্পী রানী রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

খাগড়াছড়ি :বুধবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সব পর্যটন কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) :কমলগঞ্জের পর্যটন স্পটগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে আছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর চা-বাগান লেক, ধলই বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হামহাম জলপ্রপাত, আদিবাসী খাসিয়া পুঞ্জি, মণিপুরি এলাকা ও চা-বাগান এলাকা।

না?টোর :প্রধানমন্ত্রীর উত্তরাঞ্চলীয় বাসভবনখ্যাত নাটোরের উত্তরা গণভবন, বঙ্গোজ্জ্বল রাজাবাড়ী, গ্রিন ভ্যালি পার্কসহ সব দর্শনীয় স্থান বন্ধ ঘোষণা করেছে নাটোর জেলা প্রশাসন। গতকাল জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাগেরহাট :ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদ ও আশপাশের পর্যটন এলাকায় দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

দোহার (ঢাকা) :দোহারের মিনি কক্সবাজারখ্যাত মৈনট ঘাটে জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শেরপুর :জেলার গজনী, মধুটিলা ইকোপার্কসহ সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।