ঢাকা বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২০

যে কারণে পুরুষদের বসে প্রস্রাবের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা


|| প্রকাশিত: 4:17 pm , February 14, 2020

পিনিউজ২৪ ডেস্ক: তেমন ভাবনাচিন্তা না করেই বেশির ভাগ পুরুষ মূত্রত্যাগের কাজটি সেরে ফেলেন। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে পুরুষদের মূত্রত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে।

পুরুষেরা বসে ও দাঁড়িয়ে যে যার সুবিধা মতোই ব্যক্তিগত এই কাজটি সেরে থাকেন। তবে, বহু সংস্কৃতিতে বাচ্চাদের শেখানো হয় ছেলেরা দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগ করবে আর মেয়েরা বসে। অন্যদিকে ইসলাম ধর্মে পুরুষদের বসে মূত্রত্যাগের নির্দেশ রয়েছে।

বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত ওয়েবসাইটের দাবি, মূত্রত্যাগের সময় শরীরের পজিশনের কারণে প্রস্রাবের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি পুরুষের মূত্রত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে সুস্বাস্থ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে কারণ হিসেবে বিবেচনার পাশাপাশি কারও কারও কাছে বিষয়টি সমান অধিকারের প্রশ্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কম সময়ে কর্ম-সম্পাদন

পুরুষদের সাধারণত মূত্র বিয়োগে তুলনামূলক কম সময় লাগে। বেশির ভাগ পুরুষের জন্য কাজটি দাঁড়িয়ে করাই সবচেয়ে সহজ।

ছেলেদের পাবলিক টয়লেটের সামনে দাঁড়ালেই আপনি বুঝতে পারবেন কাজটি সারতে আসলেই কত কম সময় লাগে এবং তা বাস্তবসম্মতও।

মূলত দুইটি কারণে এটা ঘটে:

১. তাদের কয়েক স্তরের কাপড় সরাতে হয় না, আর

২. মূত্রত্যাগের কমোডের জন্য কম জায়গা প্রয়োজন হয়, সে কারণে এক জায়গায় বেশি সংখ্যক ইউরিনাল বসানো যায় এবং বেশি পুরুষ এক সঙ্গে কাজটি সমাধা করতে পারেন।

মূত্রত্যাগের শারীরিক প্রক্রিয়া

মানুষের কিডনিতে উৎপাদন হয় প্রস্রাব, যা আমাদের রক্ত থেকে বর্জ্যকে সরিয়ে দেয়।

প্রস্রাব আমাদের ব্লাডারে সংরক্ষিত হয়, যার ফলে যখন-তখন টয়লেটে যাবার বেগ ছাড়াই আমরা দৈনন্দিন কাজকর্ম যথাযথভাবে সমাধা করতে এবং রাতে ঘুমাতে পারি। ব্লাডারের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৩০০ থেকে ৬০০ মিলিলিটার পর্যন্ত হয়, কিন্তু সাধারণত দুই-তৃতীয়াংশ ভর্তি হলেই মানুষ প্রস্রাবের বেগ অনুভব করে।

আর ব্লাডার পুরোপুরি খালি করতে হলে, একজন মানুষের নার্ভাস কন্ট্রোল সিস্টেম হতে হবে একেবারে যথার্থ, অর্থাৎ যা শরীরকে সংকেত দেবে কখন টয়লেটে যেতে হবে, যদি তখনই টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকে প্রস্রাব আটকে রাখতে পারবে।

এরপর অবস্থা যখন সুবিধাজনক হবে, তখন মানুষের পেলভিক ফ্লোরের মাংসপেশিসমূহ এবং ব্লাডারের স্ফিংটার মানে টিউবের চারপাশ ঘিরে যে গোলাকৃতি মাংসপেশি থাকে, যাকে মূত্রনালি বলা হয়, তা শিথিল হয়।

ব্লাডার তখন সংকুচিত হয় এবং জমা হওয়া তরল মূত্রনালিতে পাঠিয়ে দেয়, এবং এরপরই প্রস্রাব করে একজন মানুষ।

বসে না দাঁড়িয়ে?

একজন সুস্থ মানুষের মূত্রত্যাগে অসুবিধা হবার কথা নয়। তবে কোন কারণে প্রস্রাব করতে সাময়িক অথবা স্থায়ী সমস্যা থাকতে পারে কারও কারও।

বিজ্ঞান সাময়িকী প্লোস ওয়ানের এক জরিপ অনুযায়ী, যেসব পুরুষের প্রোস্টেটে জ্বালাপোড়ার সমস্যা থাকার কারণে মূত্রত্যাগে সমস্যা হয়, বসে মূত্রত্যাগ করলে তাদের সুবিধা হবে।

যেসব পুরুষের প্রোস্টেটে সমস্যা মানে লোয়ার ইউরিনারি ট্র্যাক্ট সিম্পটম রয়েছে, তাদের জন্য বসে মূত্রত্যাগ করলে মূত্রনালিতে চাপ কম পড়ে, এবং এর ফলে জল বিয়োগের কাজটি আরামদায়ক এবং দ্রুত সমাধা সম্ভব।

কিন্তু স্বাস্থ্যবান পুরুষদের জন্য বসে বা দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগে বিশেষ কোন পার্থক্য দেখা যায়নি।

সিদ্ধান্ত আপনার

যাদের মূত্রত্যাগে সমস্যা রয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, তাদের উচিত আরামদায়ক এবং শান্ত পরিবেশে বসে প্রস্রাব করা। এছাড়া অনেকে বলে থাকের, বসে মূত্রত্যাগ করলে প্রোস্টেট ক্যানসার ঠেকানো সম্ভব এবং এর ফলে পুরুষের যৌন জীবন আরও ভালো করতে পারে। তবে এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ