ঢাকা বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০

একটানা অনলাইন ক্লাসে বাচ্চার চোখের যত্ন নেবেন কীভাবে


|| প্রকাশিত: 5:58 pm , June 27, 2020

পিনিউজ২৪ ডেস্ক: করোনায় লকডাউনে সব কিছুর মতো বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে অনেক জায়গায় স্কুল খুলে গেলেও সীমিত আকারে চলছে সেগুলো। তবুও অনলাইনে থেকে ক্লাস করে যাচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থীরা।

একেবারে ঘড়ি ধরে স্কুলের সময়মতো স্কুল ড্রেসেই বাড়িতে বসে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মতো চলছে সেই ক্লাস। সঙ্গে হোম ওয়ার্ক, ক্লাসটেস্ট সবই আছে অনলাইনে।

এই সময় জানিয়েছে, তবে প্রতিদিন এই ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল আর ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে অনেক রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। শুধু তো অনলাইন ক্লাস নয়, সময় কাটানোর জন্য তাদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ মোবাইল ফোন। আর যা ভীষণ রকম ক্ষতি করছে দৃষ্টিশক্তির।

টানা ক্লাসের পর কখনও তাদের অভিযোগ খুব চোখ জ্বালা করছে, আবার কখনও চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। শুধু তো ক্লাস করেই হচ্ছে না, যাবতীয় হোমওয়ার্কও সারতে হচ্ছে অনলাইনেই। এমনকী প্রয়োজনীয় বইপত্রের জন্যও ভরসা সেই ই-বুক।

প্রথমদিকে অনেক মা মনে করেছিলেন, ইচ্ছা করেই হয়ত বাচ্চারা করছে এগুলো, যাতে পড়তে বসতে না হয়। কিন্তু ক্রমাগত একই সমস্যা হওয়ায় তখন তারা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এতে বের হয়ে আসে, একটানা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে এমনটা হচ্ছে।

এমনকী বাচ্চারা এও দাবি করেছে, কিছুক্ষণ পর তারা একই জিনিসকে একসঙ্গে দুটো করে দেখছে। এই সবই কিন্তু অনলাইন পড়াশোনার ফলে। পড়াশোনার পরেও লকডাউনে আপনার সন্তানেরা ব্যস্ত থাকে মোবাইল গেমস আর সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে। গল্প পড়ার বদলে শুনতে ভালোবাসে। লকডাউনে বাড়িতে বন্দী থাকায় দীর্ঘদিন বন্ধুদের সঙ্গে দেখা নেই। তাই সময় পেলেই চলছে ভিডিও কলও।

বাচ্চাদের চোখের এমন সমস্যার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ হচ্ছে, প্রতি ৩০ মিনিট পরপর চোখের বিশ্রাম প্রয়োজন। এছাড়াও কোনও কিছু দেখার সময় আমরা পুরো মনযোগটা দিই ফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে। চোখের পাতা ফেলার কথা মনেই থাকে না। কিন্তু এটা অভ্যাস করতে হবে। মাঝে মধ্যেই চোখের পাতা ফেলতে হবে। এতে চোখের ব্যায়াম হয় আর চোখের ড্রাইনেস থেকে বাধা পায়। মাঝেমধ্যেই একটু উঠে দূরে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকাটাও উপকারী চোখের জন্য।

এছাড়াও খাওয়ার সময় বা শুয়ে মোবাইল নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করার উপদেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে চোখের উপর যেমন চাপ পড়ে তেমন মানসিক চাপও হয়। অভিভাবকদের তারা সতর্ক করে বলেছেন, বই পড়ায় জোর দিন। কিন্তু ই-বুক নয়। ঘরে বসে খেলা যায় এরকম খেলায় উৎসাহ দিন, তবে ভিডিও গেমস নয়। অনলাইন ক্লাস বাদে বাকি সময় বাচ্চাকে ফোন, ল্যাপটপ থেকে দূরে রাখুন।