ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

বন্ধের নির্দেশ দেওয়া ক্লিনিকে অপারেশন, প্রসূতির মৃত্যু


|| প্রকাশিত: 3:25 pm , September 16, 2020

পিনিউজ২৪ ডেস্ক: পটুয়াখালীর বাউফলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চালু রাখা একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত ক্লিনিকটির নাম সেবা ক্লিনিক। প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, অযোগ্য অদক্ষ অ্যানেথেসিস্ট ও চিকিৎসককে দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানোয় তাদের মেয়ের আর জ্ঞান ফেরেনি। এছাড়াও প্রসূতি মারা গেছে বুঝতে পেরে তাদের বিষয়টি জানতে না দিয়ে কৌশলে মৃত অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছিল ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনা জানতে পেরে ওই ক্লিনিকে বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। ওই অপারেশনে জড়িত চিকিৎসক দম্পতির যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ।

মৃত প্রসূতির নাম নিপা রানী (২৫)। মঙ্গলবার দুপুরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে তার স্বজনরা বাউফল হাসপাতালের সামনে অবস্থিত সেবা ডায়াগনোস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে এনে ভর্তি করেন। বিকাল সাড়ে ৫টায় তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়। মঙ্গলবার ভোর রাতে ওই প্রসূতিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে তার সন্তানটি সুস্থ রয়েছে। মৃত নিপা রানী উপজেলার সূর্যমনি ইউপির স্বার্ণেশ্বর গ্রামের ব্যবসায়ী সুজন দাসের স্ত্রী।

জানা গেছে, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক নয়ন সরকার তাকে অ্যানেসথেসিয়া দেন এবং তার স্ত্রী পুজা ভান্ডারী তার সিজার করেন। ৩৯তম বিসিএসের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে নয়ন সরকারকে করোনাকালীন সময় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিপা রানীর মা শিখা রানী দাবি করেন, তার মেয়ের সিজার করার পর আর জ্ঞান ফেরেনি। ওই দিন দিবাগত ভোর রাত ৫টার দিকে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার মেয়েকে নবজাতকসহ উন্নত চিকিৎসার নামে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সযোগে বরিশালের উদ্দেশ্যে পাঠান। এসময় তাদের সন্দেহ হলে পথে তারা দুমকি উপজেলার লুথান হেলথ কেয়ারে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তার মেয়েকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরেও তারা বিষয়টি নিশ্চিত হতে মেয়েকে নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকও তার মেয়েকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃত নিপা রানীর স্বামী সুজন দাস অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার কারণে তার স্ত্রী মারা গেছেন। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তার মৃত স্ত্রীকে বরিশাল পাঠিয়েছেন।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘ডাক্তার নয়ন সরকার ও তার স্ত্রী পুজা ভান্ডারীর সিজারিয়ান অপারেশন করার কোনও এখতিয়ার আছে কিনা তা আমার জানা নেই।

তবে সদ্য বিসিএসের ক্যাডার পদে নিয়োগ পাওয়া ডা. নয়ন সরকার দাবি করেন, ‘যে কোনও এমবিবিএস ডাক্তার সিজারিয়ান অপারেশন করতে পারেন। তবে অভিজ্ঞতা থাকলে ভালো হয়। তার অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার ৬ মাসের সনদ আছে। তার স্ত্রী পুজা ভান্ডারীরও সিজারিয়ান অপারেশন করার অনুমতি আছে।’

তবে ওই রোগী মাত্রাতিরিক্ত অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কারণে মারা গেছেন নাকি সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় অন্য কোনও ভুলের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে এবং সেবা ক্লিনিকেই তিনি মারা গেছেন কিনা এসব বিষয়ে এই চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, সেবা ডায়গনোস্টিক সেন্টার নামের প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা সিভিল সার্জন এর আগে চিঠিও দিয়েছেন। এরপরও অদৃশ্য কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখনও চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায়ই প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম শিপন বলেন, আমরা ৪০টি ক্লিনিক বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দিয়েছি। এইসব ক্লিনিকের কাগজপত্র ঠিক নেই। নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। সেবা ক্লিনিককেও আগে বন্ধ রাখার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে খোলা রেখেছে। আজকে প্রসূতি মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে চালু রাখা ক্লিনিকে সরকারি চাকরিজীবী যে চিকিৎসকরা অপারেশন করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। একইসঙ্গে রোগীর মৃত্যু মাত্রাতিরিক্ত অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার কারণে হয়েছে কিনা সেটাও পরীক্ষা করার দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন চিকিৎসক।

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ