ঢাকা বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০

বিদেশি ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ


|| প্রকাশিত: 2:21 pm , October 2, 2020

পিনিউজ২৪ ডেস্ক: ২০১৪-১৫-অর্থবছরে সরকারের বিদেশি ঋণের সুদের হার ছিল ০.৭ শতাংশ। ছয় বছরের ব্যবধানে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেই সুদের হার দ্বিগুণ হয়েছে।

বিদেশ থেকে পাওয়া অনুদানের পরিমান কমে যাওয়ার কারণে সরকারের বিদেশি ঋণের সুদের হার বেড়েছে। ভবিষ্যতে সুদহার আরও বাড়বে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারের দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যয় হবে ৬৩ হাজার ৮০১ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে সরকার বিদেশ থেকে ঋণ নেবে ৭৬ হাজার ৪ কোটি টাকা। এই ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে এক হাজার ১৯০ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদহার ছিল ০.৭ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ০.৮ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১ দশমিক ৪ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং সবশেষ ২০১৯-২০ অর্থ বছরে হয়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারকে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে। আগামী অর্থ বছরেও এই হারে সুদ দিতে হবে। তবে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে বিদেশি ঋণের সুদ হবে ১.৫ শতাংশ।

তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের তুলনায় অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণের সুদ হার ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।

২০১৪-১৫ অর্থ বছরের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদহার ছিল ১০ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ছিল ১০ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ছিল ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ছিল ৯ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

প্রতিবেদন মতে, ২০২০-২১ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদহার ৮ দশমিক ৬ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ হবে। সরকার বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস হতে ঋণ নিয়ে থাকে।

চলতি অর্থবছরসহ পরবর্তী তিন অর্থবছরে সরকার দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ ২ হাজার ২৫৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন টাকা পরিশোধ করবে।

এসব অর্থের মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরে পরিশোধ করবে ৬৩৮ বিলিয়ন টাকা, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৭৪৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন টাকা ও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে পরিশোধ করতে হবে ৮৬৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকা।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অভ্যন্তরীণ উৎস হতে নেওয়া ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য চলতি অর্থ বছরে (২০২০-২১) ৫৮২ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৬৮০ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরের জন্য ৭৮৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বিদেশ থেকে নেওয়া ঋণের জন্য ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৫৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন টাকা, ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য ৬৮ দশমিক ১ বিলিয়ন টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৮০ দশমিক ৯ বিলিয়ন টাকা সুদ পরিশোধ করতে হবে।

সরকার ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ৩শ ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৩৩১ দশমিক ১ বিলিয়ন টাকা, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩৫৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৪১৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৪৯৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৫৭৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা পরিশোধ করেছে।

এসব অর্থের মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ২৯৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন টাকা, বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ ১৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন টাকা।

২০১৫-১৬ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদে গেছে ১৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন টাকা।

২০১৬-১৭ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদে গেছে ৩৩৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদে গেছে ১৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন টাকা।

২০১৭-১৮ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে গেছে ৩৮১ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ১ বিলিয়ন টাকা।

২০১৮-১৯ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৬০ ধমিক ১ বিলিয়ন টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা।

২০১৯-২০ অর্থ বছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৫২৮ বিলিয়ন টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন টাকা। বাংলানিউজ