ঢাকা বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০

করোনায় ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ থেকে বাঁচতে কী করবেন


|| প্রকাশিত: 2:45 pm , November 2, 2020

ডা. উত্তম কুমার দাস: করোনা মহামারী ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সময়ে মানুষ করোনা সংক্রমণের পাশাপাশি অন্য রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন।

হঠাৎ করেই অনেকের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যাকে বলা হয়, আকস্মিক ‘হার্টঅ্যাটাক’ কিংবা ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’। এসব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দেখা হচ্ছে করোনা পজিটিভ। এ ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক জীবন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।

অসংখ্য গবেষণা বলছে, হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষগুলো কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া এবং মারাত্মক পরিণতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

তবে এখন প্রশ্ন হচ্ছে– মহামারীর এই সময়ে আকস্মিক ‘হার্টঅ্যাটাক’ কিংবা ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ কীভাবে সামাল দেয়া যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের (এসসিএ) ঝুঁকি বাড়িয়েছে করোনাভাইরাস– এমনটিই দাবি বিশেষজ্ঞদের। হৃদস্পন্দনের গতি যখন তার স্বাভাবিক তাল হারায়, তখন তার রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক ক্ষমতা নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতিকে ডাক্তারি ভাষায়– ‘কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া’ বলা হয়। এমতাবস্থায় সময়মতো হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারলে মৃত্যুও হতে পারে।

হঠাৎ হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে ভয় না পেয়ে দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে।

মূল আক্রমণের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে ‘আকস্মিক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পূর্বাভাস দেখা দিতে পারে।

এ সময় বুকব্যথা, দম বন্ধ হয়ে আসা, ‘হার্ট পালপিটিশন’, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, জ্ঞান হারানো ইত্যাদি হচ্ছে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পূর্বাভাস।

এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ‘কার্ডিওলজিস্ট’র সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

কী করবেন

১. যারা ধূমপান করেন ও আগে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ হয়েছে, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, স্থূলতা– এসব রোগীকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

২. বুকব্যথা, দম আটকে আসা, ‘হার্ট পালপিটিশন’, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ও জ্ঞান হারানো দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা না নিলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

৩. জ্ঞান হারানোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পূর্বাভাস। আর রোগীর জ্ঞান ফেরার পর রোগীর কথা কিংবা আচরণে যদি কোনো পরিবর্তন চোখে পড়ে, তবে ধরে নেয়া হয় মারাত্মক কিছু ঘটে গেছে।

চিকিৎসা
হাসপাতালে না পৌঁছানো পর্যন্ত ‘সিপিআর’ হবে মূলত প্রাথমিক চিকিৎসা। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীকে দেয়া হতে পারে ‘ইমপ্লান্টেবল কার্ডিওভারটার-ডিফ্রিবিলেশন (আইসিডি)।

এই পদ্ধতিতে ব্যাটারিচালিত এই যন্ত্র রোগীর বুকে বসানো হয়, যা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন শনাক্ত করবে এবং তার সমাধান করবে বৈদ্যুতিক ‘শক’য়ের মাধ্যমে।

লেখক: ডা. উত্তম কুমার দাস, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের কার্ডিওলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ