ঢাকা বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১

৭ বছরের পুরনো কয়েক লাশ ঢামেকের মর্গে


|| প্রকাশিত: 3:01 pm , January 25, 2021

পিনিউজ২৪ ডেস্ক: ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে ছয় মাস থেকে সাত বছরের পুরনো চারটি লাশ পড়ে আছে। এদের তিনজনই বিদেশি নাগরিক। আর একজন ঢাকার ব্যবসায়ী। ধর্ম পরিচয়ের জটিলতায় পড়ে আছে ফ্রিজে। প্রতিটি মরদেহের মর্গে আসার কারণ যেমন ভিন্ন তেমনি সৎকার হওয়া নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা। এদিকে বহুদিন ধরে এই মরদেহ বয়ে বেড়ানো মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ফ্রিজ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের দেবিপুর থেকে আসে দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক থিইসিয়া সিকেওয়েস্টের লাশ। কয়েক দিনের জন্য রাখার কথা বলে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ এই মরদেহ ঢাকা মেডিকেলে রেখে গেলেও গত পাঁচ বছররেও খোঁজ নেয়নি কেউ। এদিকে, নাগরিকত্ব জটিলতায় বাংলাদেশি এক নারীকে বিয়ে করা মার্কিন নাগরিক রবার্ট বার্কারের লাশও পড়ে আছে ২০১৮ সালের মে থেকে। কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যু হওয়া ভারতীয় নাগরিক মানিকণ্ডার লাশও মর্গে রয়েছে গত বছরের জুন থেকে।

এ সবরের বাইরেও হিন্দু-মুসলিম পরিচয়ের দ্বন্দ্বে ২০১৪ সালের জুন থেকে মর্গে ঢাকার ব্যবসায়ী খোকন নন্দীর লাশ। এর মাঝে কেটে গেছে প্রায় সাত বছর।

জানা গেছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বী খোকন নন্দি ধর্মান্তরিত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মুসলিম এক নারীকে। সংকটের শুরু এখান থেকেই। বার্ধক্যজনিত কারণে হাসপাতালে খোকন মারা গেলে দুই স্ত্রীই দাবি করেন স্বামীর লাশ। এক স্বামীর মরদেহ নিয়ে শুরু হয় দুই স্ত্রীর আইনি লড়াই, যা এখনো চলছে।

মৃত খোকন নন্দীর ভাই বাবুল নন্দী বলেন, মেডিকেলে তার যত ধরনের চিকিৎসা হয়েছে। সব জায়গায়তে নিজেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কখনোই ধর্ম ত্যাগ করেননি।

দ্বিতীয় স্ত্রী হাবিবা আক্তার খানম বলেন, চার-পাঁচটা কোর্ট তারা (প্রথম স্ত্রীর পক্ষ) চেঞ্জ করিয়েছে, এখানে না সেখানে মনমতো না হলে এই হয়রানিগুলোও তারা করছে। আদৌ আসলে আমি ন্যায়বিচার পাবো কি না? সেটা আমি জানি না। অবশ্যই তারা ষড়যন্ত্র করে রায়টা দিচ্ছে না।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এই মরদেহগুলো নিয়ে বিপাকে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লাশগুলো আমাদের মর্গে পড়ে আছে। এতে মর্গ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম

লাশগুলো দ্রুত সৎকারের বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপও আশা করেন এই কর্মকর্তা।

এই বিভাগের আরও খবর
সর্বশেষ